প্রজ্ঞাময় সৌন্দর্যের গান – পার্সী বীশি শেলী

অনুবাদ: রেজা নুর

১.
ভয়ানক ছায়াটা কোনো অদৃশ্য শক্তির
বেড়ায় ভেসে অদেখা আমাদের মাঝে,— আসে
এই বিচিত্র পৃথিবীতে অস্থির ডানায় ভাসে
যেমন গ্রীষ্মের বাতাস ফুলে ফুলে অস্থির—
পাইনের পাহাড়ে চাঁদের আলো ঝরে ঝিরঝির,
চঞ্চল এক চাহনি যেনো ঘোরে
সব মানুষের মুখে আর অন্তরে;
সন্ধ্যার স্বর ও রঙের মতো হাসে,—
তারার আলোয় মেঘ ছড়িয়ে যাবার মতো,—
সংগীতের স্মৃতির মতো হারিয়ে যদি যেতো,—
কোনো কিছুর সুন্দরতা যেমন
প্রিয়, প্রিয়তর কেননা তা রহস্যময় গোপন।

২.
সৌন্দর্যের সত্ত্বা, যা শুদ্ধ করে
সমস্ত কিছু রঙ ছড়িয়ে নিজের
ভাবনা জাগাও,— যাবার তাড়া কিসের?
মিলিয়ে কেনো যাও, কেনো পড়ো স’রে,
অশ্রুভরা উপত্যকা ছেড়ে, শূন্য এবং পোড়ো?
জানতে চাও রোদ কেনো সব সময়
রঙধনু না আঁকে পাহাড় চূড়ায়,
হারিয়ে কেনো যায় একবার যা দেখি,
কেনো জন্ম ও মৃত্যু, স্বপ্ন এবং ভয়
ফিরে ফিরে আসে এই পৃথিবীর আলোয়
এমন অন্ধকার,— মানুষ কেনো এমন ক’রে পায়?
প্রেম আর ঘৃণা, হতাশা আর আশায়?

৩.
মহিমান্বিত পৃথিবী থেকে আসে না কোনো স্বর
সাধু কিংবা কবির কাছে আসেনি পয়গাম—
তাই দানব, প্রেত কিংবা ঈশ্বরের নাম
থেকে যায় তাদের ব্যর্থ নমুনা চেষ্টার,
ঠুনকো মোহ—যাদের মন্ত্র নয় ভোলাবার
যা কিছু আমরা শুনি আর দেখি,
সন্দেহ, সম্ভাবনা আর অস্থিরতা মেকি।
শুধু তোমার আলো—পাহাড়ের ওপরের কুয়াশার ঘাম।
অথবা রাতের বাতাসের গান
নীরব যন্ত্রের তারের সুরতান,
কিংবা মধ্যরাতের জলে চাঁদের চমকানি,
অস্থির স্বপ্নে আনে সত্য ও সুন্দরতা জানি।

৪.
প্রেম, প্রত্যাশা, আর মান, মিলায়মেঘের মতো
এবং আসে, অনিশ্চিত মুহূর্তের পর।
মানুষ হতো অমর, আর সর্ব শক্তির আধার,
তুমি, অচেনা আর ভয়ানক নিজের মতো,
তোমার মহিমা রাখো তার অন্তরে যত।
তুমি দূত সমবেদনার,
বাড়ে আর কমে, চোখে প্রমিকার —
তুমি—সাজাও ভাবনা মানুষের,
নিভে আসা যেনো প্রদীপের অন্ধকার!
মিলিয়ে না যায়, ছায়া এলেও তোমার,
যাও না চ’লে—পাছে কবরই হয়,
জীবন আর ভয়ের মতো, অন্ধকারময়।


ছেলেবেলায় ভূত খুঁজতাম, যেতাম চলে
শূন্য হল ঘরে, গুহা আর ধ্বংস-স্তুপে,
তারার আলোর বনে, ভীরু চুপে চুপে
গভীর কথা প্রেতের সাথে বলবো বলে।
ছোটবেলার ভূতের মন্ত্র পড়েও;
শুনিনি কিছু— মেলেনি তাদের দেখা—
গভীর ধ্যানে ডুবে যখন একা
বাতাস যখন মৃদু-মন্দ সেই মধু-মাসে
মহার্ঘ সব জিনিস নিয়ে আসে
পাখির গান আর ফুলের সুবাসে,—
হঠাৎ, পড়লো তোমার ছায়া;
ব’লে উঠি মুষ্টিবদ্ধ, আনন্দময় মায়া!

৬.
শপথ, উৎসর্গ করবো কবিত্ব আমার
তোমাকেই শুধু— রাখিনি কী ওয়াদা?
হৃদয়ের স্পন্দনে আর চোখের জলে সাধা
ডাকি সেই প্রতিচ্ছায়া হাজারও মুহূর্ত ধরে
স্বরহীন কবরে: সময় রয়েছে কল্পনার ঘরে
অদম্য পাঠ আর আনন্দময় প্র্রেম
জেগে থাকে সারারাত আমার সাথে—
জানে তারা আনন্দে উজ্জ্বল হই না আমি
আশাহীন এই ভেবে, মুক্ত করবে তাকে
এই ঘোর দাসত্ব থেকে,
তুমি— হে ভয়ানক সুন্দর,
করবে দান, বলতে ব্যর্থ এই শব্দের স্বর।

৭.
দিন হয়ে ওঠে গম্ভীর সুনসান
দুপুরের পর— মৃদু সংগীত
শরতের, আর এর আকাশের লাল,
গ্রীষ্মে যায় না দেখা শুনি না তার গান,
যেন নেই, ছিলো না এর ঐকতান!
এমনিভাবে তোমার আবেশ, প্র্রকৃতির
সত্যের মতো আমার চটুল বয়সে
এসেছিলো, জীবনের অনাগত কাল
প্রশান্ততা— তোমার প্রার্থনায় যে প্রীত,
আর সব অবয়বে তোমার নাম অংকৃত,
যার, মহিমন্বিত সুন্দর, পরিয়েছেতোমার শিকল
ভুলিয়ে দিতে গরিমা, আর ভালবাসতেমানব সকল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s