কালিদাসের মেঘদূত শ্লোক ০০৯-০১২ (পূর্ব মেঘ) – অনুবাদ নরেন্দ্র দেব


অনুকূল বায়ু বহিয়া তোমারে ল’য়ে যাবে ধীরে ধীরে,
তোমার বামেতে চাতক-নিনাদ ধ্বনিবে আকাশ চিরে;
নয়নাভিরাম বলাকার পাঁতি কন্ঠে দুলাবে মালা,
গর্ভাধানের ক্ষণপরিচয় জানাবে কত বালা!
১০
অবিরাম গতি গেলে দিবারাতি প্রেয়সীর দেখা পাবে
পতিপ্রাণা তব ভ্রাতৃজায়াটি বিরহ-ব্যাকুল ভাবে
বিরলে বসিয়া গণিতেছে দিন, বিষাদে মলিন মুখ,
কোনমতে আছে পরাণ ধরিয়া লভিতে মিলন-সুখ।
কুসুম সমান সুকোমল তনু কি যেন বেদনাহত,
আশার শীর্ন বৃন্তে ঝুলিছে শিথিল ফুলের মত!
১১
শ্রাবণ-মধুর গরজনে তব আকাশ শিহরি’ ওঠে,
তোমার সজল স্নিগ্ধ পরশে ভূঁইচাপা ফুল ফোটে,
বন্ধ্যা ধরণী হবে ফলবতী, জাগাতে সে আশা প্রাণে
শুরুগম্ভীর মৃদঙ্গ হেন মেঘের ডমরু গানে
কৈলাস পথে উড়ে চলে শুনি, হংসরাজের দল,
চঞ্চু-অগ্রে মৃণালখন্ড করে ওঠে ঝল্‌মল!
১২
রঘুপতি-পদ-চিহ্নিত যার শৈল-মেখলা, প্রিয়,
আলিঙ্গিয়া সে তুঙ্গ শৃঙ্গে মধুর সম্ভাষিও।
ক্বচিত কখনো উভয়ের দেখা, নহে সে অধিকক্ষণ,
বিরহ ব্যাথার বাষ্প তাহার স্নেহে কোরো নিবারণ।

মুল শ্লোক

মন্দং মন্দং নুদতি পবনশ্চানুকূলো যথা ত্বাং
বামশ্চাযং নদতি মধুরং চাতকস্তে সগন্ধঃ
গর্ভাধানক্ষণপরিচযান্নূনমাবদ্ধমালাঃ
সেবিষ্যন্তে নযনসুভগং খে ভবন্তংবলাকাঃ
১০
তাং চাবশ্যং দিবসগণনাতত্পরামেকপত্নীং
অব্যাপন্নামবিহতগতির্দ্রক্ষ্যসি ভ্রাতৃজাযাম্
আশাবন্ধঃ কুসুমসদৃশং প্রাযশো হ্যঙ্গনানাং
সদ্যঃপাতি প্রণযি হৃদযং বিপ্রযোগে রুণদ্ধি
১১
কর্তুং যচ্চ প্রভবতি মহীমুচ্ছিলিন্ধ্রামবন্ধ্যাং
তচ্ছ্রুত্ব অ তে শ্রবণসুভগং গর্জিতং মানসোত্কাঃ
আ কৈলাসাদ্বিসকিসলযচ্ছেদপাথেযবন্তঃ
সংপত্স্যন্তে নভসি ভবতো রাজহংসাঃ সহাযাঃ
১২
আপৃচ্ছস্ব প্রিযসখমমুং তুঙ্গমালিঙ্গ্য শৈলং
বন্দ্যৈঃ পুংসাং রঘুপতিপদৈরঙ্কিতং মেখলাসু
কালে কালে ভবতি ভবতো যস্য সংযোগমেত্য
স্নেহব্যক্তিশ্চিরবিরহজং মুঞ্চতো বাষ্পমুষ্ণম্

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s