নিঃসঙ্গতা – আবুল হাসান

অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত শোভা, অত স্বাধীনতা!
চেয়েছিল আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়ে
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিল
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!
অতটুকু চায়নি বালিকা!
অত হৈ রৈ লোক, অত ভীড়, অত সমাগম!
চেয়েছিল আরো কিছু কম!
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিল
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণী!

অহংকার – হেলাল হাফিজ

বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।
তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।
উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।

আমার পরান যাহা চায় – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার পরান যাহা চায়
তুমি তাই, তুমি তাই গো।
তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই, কিছু নাই গো।।

তুমি সুখ যদি নাহি পাও,
যাও সুখের সন্ধানে যাও-
আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে,
আর কিছু নাহি চাই গো।।

আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন,
তোমাতে করিব বাস
দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
দীর্ঘ বরষ-মাস।

যদি আর-কারে ভালোবাস,
যদি আর ফিরে নাহি আস,
তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও,
আমি যত দুখ পায় গো।।

সেই কবে থেকে – হুমায়ুন আজাদ

সেই কবে থেকে জ্বলছি
জ্ব’লে জ্ব’লে নিভে গেছি ব’লে
তুমি দেখতে পাও নি ।

সেই কবে থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছি
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাতিস্তম্ভের মতো ভেঙে পড়েছি ব’লে
তুমি লক্ষ্য করো নি ।

সেই কবে থেকে ডাকছি
ডাকতে ডাকতে স্বরতন্ত্রি ছিঁড়ে বোবা হয়ে গেছি ব’লে
তুমি শুনতে পাও নি ‘।

সেই কবে থেকে ফুটে আছি
ফুটে ফুটে শাখা থেকে ঝ’রে গেছি ব’লে
তুমি কখনো তোলো নি ।

সেই কবে থেকে তাকিয়ে রয়েছি
তাকিয়ে তাকিয়ে অন্ধ হয়ে গেছি ব’লে
একবারো তোমাকে দেখি নি ।

বাঙালি রক্তের মত লাল-1 -মোহাম্মদ কামাল

কুড়ালের ছায়া দুলে উঠে যদি বলে যায়
আর ফাল্গুনে পলাশ না ফোটে,
শিমুল নাফোটে, না ফোটে ডালিম
উস্কানির আলো কোন লাল ফুল!
দীর্ঘদেহী কুড়ালের
ছায়া দুলে ওঠে বাঙলায়..
ইতিহাস আছে, কোন
কুড়াল শাসন ভীত ইতিহাস?
বাঙালি রক্তের মত লাল
ফুল ফুটবেই
অনন্ত ফাল্গুন.

বাঙালি রক্তের মত লাল-2 -মোহাম্মদ কামাল

রক্তের আলকাতরা অন্ধকারে বধ্যরাত্রি
দালি’র চোয়ানো ঘড়ির মত
মহাকালে জমাট
ধ্বংস চমকে উজ্জ্বলন্ত পলকের লোমহর্ষ
লাল!
গলনাঙ্কে হিমালয় এত
ফিনকি ধারা কখনো দ্যাখেনি
কখনো দ্যাখেনি এত জল বঙ্গোপসাগর
কখনো মাখেনি কোন মুক্তিযুদ্ধ এত
সংশপ্তকের হৃৎপিণ্ডের লাভা৤
লক্ষপ্রাণের ঘনীভূত একছোপ
চোয়ানো রক্তের মত
মহাকালের প্রকাশ্য দিবালোকে জমাট
বাংলাদেশের মানচিত্র
অনন্তে একছোপ চোয়ানো রক্তের মত
মহাকালে জমাট৤
অগ্নিচেতনার লাল
নিজস্ব তাজা ক্ষতের মত লাল
স্বাধীনতা বাঙালি রক্তের মত লাল৤

শাহবাগ নেই শুধু শাহবাগ মোড়ে-মুহম্মদ নূরুল হুদা

চলো ভাই চলো বোন চলো শাহবাগ
মহানগরীর মুখ চলো শাহবাগ
মহাজনতার মুখ চলো শাহবাগ
প্রজন্মের জয়ী মুখ চলো শাহবাগ
পিজি আর জাদুঘর পাশে শাহবাগ
নজরুল জয়নুল পাশে শাহবাগ
জনকের বজ্রধ্বনি পাশে শাহবাগ
সার্বভৌম হে তর্জনী পাশে শাহবাগ
শাহবাগ নেই শুধু শাহবাগ মোড়ে
শাহবাগ নেই শুধু ঢাকার শহরে
শাহবাগ নেই শুধু নগর-বাংলায়
যেখানে বাঙালি যায়, শাহবাগ যায়
অলিগলি তেপান্তর আজ শাহবাগ
পাখপাখালির ডানা আজ শাহবাগ
মেঠোপথ বালুচর আজ শাহবাগ
বাঙালির পথচিহ্ন আজ শাহবাগ
রবীন্দ্রনাথের বাংলা আজ শাহবাগ
নজরুলের জয় বাংলা আজ শাহবাগ
মুজিবের জয় বাংলা আজ শাহবাগ
জনতার জয় বাংলা আজ শাহবাগ
চলো ভাই চলো বোন চলো শাহবাগ
এ বাংলার জলস্থল চলো শাহবাগ
এ বাংলার নভোতল চলো শাহবাগ
এ বাংলার প্রতি ইঞ্চি চলো শাহবাগ
খুনির বিচার আছে আছে শাহবাগ
জনতার রায় আছে আছে শাহবাগ
ফাঁসির মঞ্চ আছে আছে শাহবাগ
রাজা নেই রাণী নেই আছে শাহবাগ
চলো ভাই চলো বোন চলো শাহবাগ
হাতে হাত কাঁধে কাঁধ চলো শাহবাগ
শ্লোগানে ও গানে গানে চলো শাহবাগ
গণতন্ত্র জপমন্ত্র চলো শাহবাগ
আরেকবার বাহান্ন চলো শাহবাগ
আরেকবার একাত্তর চলো শাহবাগ
আরেকবার পুণ্যবাংলা চলো শাহবাগ
আরেকবার সাম্যবাদ চলো শাহবাগ
সকালে সূর্য জ্বলে চলো শাহবাগ
দুপুরে শৌর্য জ্বলে চলো শাহবাগ
বিকেলে জনতা জ্বলে চলো শাহবাগ
দিনে আলো রাতে আলো আলো শাহবাগ