তুই কি আমার দুঃখ হবি – আনিসুল হক

তুই কি আমার দুঃখ হবি?
এই আমি এক উড়নচন্ডী আউলা বাউল
রুখো চুলে পথের ধুলো
চোখের নীচে কালো ছায়া।
সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।
তুই কি আমার দুঃখ হবি?
তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?
তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুর
নির্জনতা ভেঙে দিয়ে
ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে
ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি?
একটি নীলাভ এনভেলাপে পুরে রাখা
কেমন যেন বিষাদ হবি।
তুই কি আমার শুন্য বুকে
দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি?
নরম হাতের ছোঁয়া হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
নিজের ঠোট কামড়ে ধরা রোদন হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায়
কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
তুই কি একা আমার হবি?
তুই কি আমার একান্ত এক দুঃখ হবি?

দারুন একখান পোলা - আবুল মফিজ

বাংলাদেশের ছিপার ভেতর
কুষ্টিয়া জেলা ,
সেই জেলায় বাস করে
সেলিম নামের পোলা ।

নাদুস নুদুস চেহারা তার
নরম নরম গাল ,
দেখে যেন মনে হয়
আস্ত একটা মাল ।

পড়ালেখা নাই শুধু
জিম নিয়ে থাকে ,
সেই জন্যেই সবাই তাকে
মাসাকাদজা ডাকে ।

হাতে আছে নকিয়ার
শ্রেষ্ঠ এন্ড্রয়েড ,
বেলে নাকি সেটা আবার
সিঙ্গাপুরে মেইড ।

শারমিন নামক মালের সাথে
তার ভালোবাসা ,
ছ্যাঁকা খেয়ে মিটে গেলো
তার সব আশা ।

কাজে কর্মে যেমন তেমন
শুক্রানু খুব স্ট্রং ,
তার পরেও করে সে
হিজড়ার মতো ডং ।

[বিঃদ্রঃ সেলিম ভাই সেই লোক আমাদের সাথে UCC তে কোচিং করে]

এলো বনান্তে পাগল বসন্ত – কাজী নজরুল ইসলাম

এলো বনান্তে পাগল বসন্ত।
বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে,চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।
বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর,
পান্ডু-কপোলে জাগে রং নব অনুরাগে
রাঙা হল ধূসর দিগন্ত।।
কিশলয়ে-পর্ণে অশান্ত ওড়ে তা’র অঞ্চল প্রাস্ত।
পলাশ-কলিতে তা’র ফুল-ধনু লঘু-ভার,
ফুলে ফুলে হাসি অফুরন্ত।
এলো মেলো দখিনা মলয় রে প্রলাপ বকিছে বনময় রে।
অকারণ মন মাঝে বিরহের বেণু বাজে।
জেগে ওঠে বেদনা ঘুমন্ত।।

রমজানের ঐ রোজার শেষে – কাজী নজরুল ইসলাম

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে , শোন আসমানী তাগিদ।

তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহেলিল্লাহ
দে যাকাত , মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্যউপবাসী
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানীতাগিদ।

ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,
তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয়মনে উম্মীদ।।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানীতাগিদ।

হে পার্থসারথী! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ – কাজী নজরুল ইসলাম

হে পার্থসারথী! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ
চিত্তের অবসাদ দূর কর কর দূর
ভয়-ভীত জনে কর হে নিঃশঙ্ক।।
ধনুকে টংকার হানো হানো,
গীতার মন্ত্রে জীবন দানো;
ভোলাও ভোলাও মৃত্যু-আতংক।।
মৃত্যু জীবনের শেষ নহে নহে-
শোনাও শোনাও-অনন্ত কাল ধরি’
অনন্ত জীবন প্রবাহ বহে।
দুর্দম দুরন্ত যৌবন-চঞ্চল
ছাড়িয়া আসুক মা’র স্নেহ-অঞ্চল;
বীর সন্তানদল করুক সুশোভিত মাতৃ-অঙ্ক।।

আমি চিনি গো চিনি তোমারে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি চিনি গো চিনি তোমারে
ওগো বিদেশিনী ।
তুমি থাক সিন্ধুপারে
ওগো বিদেশিনী ।।

তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে,
তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে,
তোমায় দেখেছি হৃদি-মাঝারে,
ওগো বিদেশিনী ।

আমি আকাশে পাতিয়া কান
শুনেছি শুনেছি তোমারি গান,
আমি তোমারে সঁপেছি প্রাণ
ওগো বিদেশিনী ।

ভুবন ভ্রমিয়া শেষে
আমি এসেছি নূতন দেশে,
আমি অতিথি তোমারি দ্বারে
ওগো বিদেশিনী ।।

আমার যাবার সময় হল দাও বিদায় – কাজী নজরুল ইসলাম

আমার যাবার সময় হল দাও বিদায়
মোছ আঁখি দুয়ার খোল দাও বিদায়।।
ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে
ঝরে ধুলায় ভোর বেলাতে।।
আমায় তারা ডাকে সাথী
আয়রে আয়
সজল করুন আঁখি তোলো দাও বিদায়
অন্ধকারে এসেছিলাম
থাকতে আঁধার যাই চলে
ক্ষনেক ভালবেসেছিলে চিরকালের নাই হলে
হল চেনা হল দেখা
নয়ন জলে রইল লেখা
দর বিরহী ডাকে কেকা বরষায়
ফাগুন স্বপন ভোলো ভোলো দাও বিদায়।।